ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর: ১৪ ও ১৫-তে ২০২৬ পর্যন্ত ফ্রি স্যাটেলাইট এসওএস

ডিএসবি ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: ১১:৪৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬২ জন পড়েছে

আইফোন ১৪ ও ১৫ ব্যবহারকারীরা ২০২৬ পর্যন্ত ফ্রি স্যাটেলাইট SOS

অ্যাপল আবারও প্রযুক্তি-প্রেমীদের জন্য চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়েছে। আইফোন ১৪ ও আইফোন ১৫ সিরিজের ব্যবহারকারীরা এখন বিনা মূল্যে আরও এক বছর স্যাটেলাইট-নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এই সুবিধাটি প্রথম চালু হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে, যখন আইফোন ১৪ সিরিজ বাজারে আসে। শুরুর ঘোষণায় বলা হয়েছিল মাত্র দুই বছর ফ্রি পাওয়া যাবে এ সেবা। পরে আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়। আর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কোনো খরচ ছাড়াই এই জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন।

কিন্তু এরপর কী হবে? অ্যাপল এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট কিছু বলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের পর থেকে হয়তো সাবস্ক্রিপশন ফি বা আলাদা চার্জ দিতে হতে পারে।


স্যাটেলাইট-নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস আসলে কী?

প্রথমেই জানা দরকার, এই প্রযুক্তি আসলে কীভাবে কাজ করে। সাধারণত আমরা মোবাইল নেটওয়ার্ক (2G, 3G, 4G বা 5G) এবং ওয়াই-ফাই ব্যবহার করি যোগাযোগের জন্য। কিন্তু পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল বা কোনো দুর্গম এলাকায় গেলে এই নেটওয়ার্ক অনেক সময় পাওয়া যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করে ফোন সরাসরি মহাকাশে থাকা যোগাযোগ স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর সেই সিগন্যাল রিলে হয়ে পৌঁছে যায় উদ্ধারকর্মী বা জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার কাছে। ফলে নেটওয়ার্ক না থাকলেও ব্যবহারকারী জরুরি বার্তা পাঠাতে বা অবস্থান শেয়ার করতে পারেন।

অ্যাপল এখানে ব্যবহার করছে লো আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, যা পৃথিবীর কক্ষপথে অপেক্ষাকৃত নিচু উচ্চতায় ঘুরছে। এর ফলে সিগন্যাল পৌঁছাতে সময় কম লাগে, আর কার্যকরভাবে কাজ করে এই এসওএস সেবা।


জীবন বাঁচানোর বাস্তব উদাহরণ

অ্যাপলের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত দুই বছরে এই প্রযুক্তি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। যেমন-

আলাস্কায় এক তরুণ অভিযাত্রী তুষারঝড়ে আটকা পড়ে নেটওয়ার্ক না থাকায় কাউকে খবর দিতে পারছিলেন না। তখন তিনি আইফোনের স্যাটেলাইট এসওএস ব্যবহার করে রেসকিউ টিমের কাছে সিগন্যাল পাঠান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে উদ্ধার করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় এক দম্পতি পাহাড়ি সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন। দুর্ঘটনাস্থলে নেটওয়ার্ক ছিল না। আইফোনের স্যাটেলাইট সুবিধা ব্যবহার করে তারা জরুরি বার্তা পাঠান, যা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কানাডার বনাঞ্চলে একজন পর্যটক পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তার আইফোন স্যাটেলাইট এসওএস সক্রিয় করে অবস্থান জানানোয় তাকে দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়।

এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে, অ্যাপলের এই প্রযুক্তি শুধু একটি ফিচার নয়-এটি সত্যিকার অর্থেই জীবনরক্ষাকারী সমাধান।

আইফোন ১৪ ও ১৫ সিরিজে আরও এক বছর ফ্রি এসওএস সুবিধা
আইফোন ১৪ ও ১৫ সিরিজে আরও এক বছর ফ্রি এসওএস সুবিধা

বর্তমানে কোন কোন দেশে চালু আছে?

এখন পর্যন্ত অ্যাপলের স্যাটেলাইট নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা চালু রয়েছে মোট ১৭টি দেশে। এর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড।

অ্যাপল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এশিয়ার দেশগুলোতেও ধীরে ধীরে এ সুবিধা চালু করা হবে। তবে এখনো দক্ষিণ এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। ফলে বাংলাদেশ বা ভারতীয় ব্যবহারকারীরা আপাতত সুবিধাটি পাচ্ছেন না।


অ্যাপল ওয়াচ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

সম্প্রতি অ্যাপল তাদের অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩-এও এই সুবিধা যুক্ত করেছে। ফলে ঘড়ির মাধ্যমেও জরুরি বার্তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শোনা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আইপ্যাড, ম্যাকবুকসহ অন্যান্য ডিভাইসেও এ প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে।

এটি অ্যাপলের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, যাতে তাদের ডিভাইসগুলো সবসময় ব্যবহারকারীর জীবন রক্ষায় কার্যকরী হতে পারে। আর প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে অ্যাপল হয়তো নিজস্ব স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। তখন ব্যবহারকারীরা আর আলাদা কোনো সাবস্ক্রিপশনের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না।


প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো কী করছে?

শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বব্যাপী অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতারাও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

স্যামসাং জানিয়েছে, ভবিষ্যতের গ্যালাক্সি সিরিজেও স্যাটেলাইট যোগাযোগ যুক্ত করা হবে।

হুয়াওয়ে ইতোমধ্যে চীনে তাদের কিছু ফ্ল্যাগশিপ ফোনে স্যাটেলাইট কলিং সুবিধা চালু করেছে।

গুগল–এর পিক্সেল ফোনেও নিকট ভবিষ্যতে এ ধরনের সুবিধা আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে অ্যাপল প্রথম থেকেই এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারকারীর হাতে তুলে দিয়েছে, যা তাদের বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে।


২০২৬ সালের পর কী হবে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন-২০২৬ সালের নভেম্বরের পর কী হবে?

অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, তখন হয়তো সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক মডেল চালু হবে। যেমন-

মাসিক বা বার্ষিক চার্জ

নির্দিষ্ট সংখ্যক ফ্রি এসওএস ব্যবহার, এরপর চার্জ প্রযোজ্য

প্রিমিয়াম আইক্লাউড বা অ্যাপল ওয়ান প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা

যদি ফি ধার্য করা হয়, তবে সেটি কেমন হবে সেটিই এখন সবার কৌতূহল। তবে জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, দাম যাই হোক না কেন, ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা রাখতে চাইবেন।


ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া

বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীরা এ সুবিধাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই প্রযুক্তি থাকায় ভ্রমণ, ট্রেকিং বা ক্যাম্পিং করার সময় তারা বেশি নিরাপদ বোধ করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, প্রযুক্তিটি আরও বেশি দেশে চালু করা উচিত, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে।

বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশে (যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা পাহাড়ি দুর্ঘটনা) এ প্রযুক্তি কার্যকর হলে মানুষের জীবন বাঁচানো সহজ হতো। তাই এখানকার ব্যবহারকারীরা অপেক্ষা করছেন কখন এই সুবিধা পাওয়া যাবে।


ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

স্যাটেলাইট-নির্ভর প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পাল্টে দিতে পারে। শুধু জরুরি এসওএস নয়, একসময় হয়তো সাধারণ ভয়েস কল, মেসেজিং এমনকি ইন্টারনেট ডেটাও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

এক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে-

খরচ

অবকাঠামো

স্পেকট্রাম লাইসেন্স

তবে প্রযুক্তি প্রতিদিন উন্নত হচ্ছে। যেমন স্টারলিঙ্ক (SpaceX) ইতোমধ্যেই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা বিশ্বব্যাপী চালু করেছে। ভবিষ্যতে হয়তো আইফোনও স্টারলিঙ্ক বা অন্য কোনো স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারবে।


সবশেষে বলা যায়-

আইফোন ১৪ ও ১৫ সিরিজ ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের সাম্প্রতিক ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি বড় সুখবর। ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিনামূল্যে স্যাটেলাইট-নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা পাওয়া মানে হলো-যেখানেই থাকুন না কেন, বিপদে পড়ে আপনি সাহায্য চাইতে পারবেন।

যদিও এরপর কী হবে তা অনিশ্চিত, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ভবিষ্যতের মোবাইল যোগাযোগে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিই বড় ভূমিকা রাখবে। আর অ্যাপল সেই ভবিষ্যৎ গড়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করে সকলকে জানিয়ে দিন

মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর: ১৪ ও ১৫-তে ২০২৬ পর্যন্ত ফ্রি স্যাটেলাইট এসওএস

প্রকাশের সময়: ১১:৪৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অ্যাপল আবারও প্রযুক্তি-প্রেমীদের জন্য চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়েছে। আইফোন ১৪ ও আইফোন ১৫ সিরিজের ব্যবহারকারীরা এখন বিনা মূল্যে আরও এক বছর স্যাটেলাইট-নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এই সুবিধাটি প্রথম চালু হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে, যখন আইফোন ১৪ সিরিজ বাজারে আসে। শুরুর ঘোষণায় বলা হয়েছিল মাত্র দুই বছর ফ্রি পাওয়া যাবে এ সেবা। পরে আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়। আর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কোনো খরচ ছাড়াই এই জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন।

কিন্তু এরপর কী হবে? অ্যাপল এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট কিছু বলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের পর থেকে হয়তো সাবস্ক্রিপশন ফি বা আলাদা চার্জ দিতে হতে পারে।


স্যাটেলাইট-নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস আসলে কী?

প্রথমেই জানা দরকার, এই প্রযুক্তি আসলে কীভাবে কাজ করে। সাধারণত আমরা মোবাইল নেটওয়ার্ক (2G, 3G, 4G বা 5G) এবং ওয়াই-ফাই ব্যবহার করি যোগাযোগের জন্য। কিন্তু পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল বা কোনো দুর্গম এলাকায় গেলে এই নেটওয়ার্ক অনেক সময় পাওয়া যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করে ফোন সরাসরি মহাকাশে থাকা যোগাযোগ স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর সেই সিগন্যাল রিলে হয়ে পৌঁছে যায় উদ্ধারকর্মী বা জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার কাছে। ফলে নেটওয়ার্ক না থাকলেও ব্যবহারকারী জরুরি বার্তা পাঠাতে বা অবস্থান শেয়ার করতে পারেন।

অ্যাপল এখানে ব্যবহার করছে লো আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, যা পৃথিবীর কক্ষপথে অপেক্ষাকৃত নিচু উচ্চতায় ঘুরছে। এর ফলে সিগন্যাল পৌঁছাতে সময় কম লাগে, আর কার্যকরভাবে কাজ করে এই এসওএস সেবা।


জীবন বাঁচানোর বাস্তব উদাহরণ

অ্যাপলের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত দুই বছরে এই প্রযুক্তি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। যেমন-

আলাস্কায় এক তরুণ অভিযাত্রী তুষারঝড়ে আটকা পড়ে নেটওয়ার্ক না থাকায় কাউকে খবর দিতে পারছিলেন না। তখন তিনি আইফোনের স্যাটেলাইট এসওএস ব্যবহার করে রেসকিউ টিমের কাছে সিগন্যাল পাঠান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে উদ্ধার করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় এক দম্পতি পাহাড়ি সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন। দুর্ঘটনাস্থলে নেটওয়ার্ক ছিল না। আইফোনের স্যাটেলাইট সুবিধা ব্যবহার করে তারা জরুরি বার্তা পাঠান, যা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কানাডার বনাঞ্চলে একজন পর্যটক পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তার আইফোন স্যাটেলাইট এসওএস সক্রিয় করে অবস্থান জানানোয় তাকে দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়।

এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে, অ্যাপলের এই প্রযুক্তি শুধু একটি ফিচার নয়-এটি সত্যিকার অর্থেই জীবনরক্ষাকারী সমাধান।

আইফোন ১৪ ও ১৫ সিরিজে আরও এক বছর ফ্রি এসওএস সুবিধা
আইফোন ১৪ ও ১৫ সিরিজে আরও এক বছর ফ্রি এসওএস সুবিধা

বর্তমানে কোন কোন দেশে চালু আছে?

এখন পর্যন্ত অ্যাপলের স্যাটেলাইট নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা চালু রয়েছে মোট ১৭টি দেশে। এর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড।

অ্যাপল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এশিয়ার দেশগুলোতেও ধীরে ধীরে এ সুবিধা চালু করা হবে। তবে এখনো দক্ষিণ এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। ফলে বাংলাদেশ বা ভারতীয় ব্যবহারকারীরা আপাতত সুবিধাটি পাচ্ছেন না।


অ্যাপল ওয়াচ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

সম্প্রতি অ্যাপল তাদের অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩-এও এই সুবিধা যুক্ত করেছে। ফলে ঘড়ির মাধ্যমেও জরুরি বার্তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শোনা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আইপ্যাড, ম্যাকবুকসহ অন্যান্য ডিভাইসেও এ প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে।

এটি অ্যাপলের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, যাতে তাদের ডিভাইসগুলো সবসময় ব্যবহারকারীর জীবন রক্ষায় কার্যকরী হতে পারে। আর প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে অ্যাপল হয়তো নিজস্ব স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। তখন ব্যবহারকারীরা আর আলাদা কোনো সাবস্ক্রিপশনের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না।


প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো কী করছে?

শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বব্যাপী অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতারাও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

স্যামসাং জানিয়েছে, ভবিষ্যতের গ্যালাক্সি সিরিজেও স্যাটেলাইট যোগাযোগ যুক্ত করা হবে।

হুয়াওয়ে ইতোমধ্যে চীনে তাদের কিছু ফ্ল্যাগশিপ ফোনে স্যাটেলাইট কলিং সুবিধা চালু করেছে।

গুগল–এর পিক্সেল ফোনেও নিকট ভবিষ্যতে এ ধরনের সুবিধা আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে অ্যাপল প্রথম থেকেই এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারকারীর হাতে তুলে দিয়েছে, যা তাদের বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে।


২০২৬ সালের পর কী হবে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন-২০২৬ সালের নভেম্বরের পর কী হবে?

অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, তখন হয়তো সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক মডেল চালু হবে। যেমন-

মাসিক বা বার্ষিক চার্জ

নির্দিষ্ট সংখ্যক ফ্রি এসওএস ব্যবহার, এরপর চার্জ প্রযোজ্য

প্রিমিয়াম আইক্লাউড বা অ্যাপল ওয়ান প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা

যদি ফি ধার্য করা হয়, তবে সেটি কেমন হবে সেটিই এখন সবার কৌতূহল। তবে জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, দাম যাই হোক না কেন, ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা রাখতে চাইবেন।


ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া

বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীরা এ সুবিধাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই প্রযুক্তি থাকায় ভ্রমণ, ট্রেকিং বা ক্যাম্পিং করার সময় তারা বেশি নিরাপদ বোধ করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, প্রযুক্তিটি আরও বেশি দেশে চালু করা উচিত, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে।

বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশে (যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা পাহাড়ি দুর্ঘটনা) এ প্রযুক্তি কার্যকর হলে মানুষের জীবন বাঁচানো সহজ হতো। তাই এখানকার ব্যবহারকারীরা অপেক্ষা করছেন কখন এই সুবিধা পাওয়া যাবে।


ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

স্যাটেলাইট-নির্ভর প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পাল্টে দিতে পারে। শুধু জরুরি এসওএস নয়, একসময় হয়তো সাধারণ ভয়েস কল, মেসেজিং এমনকি ইন্টারনেট ডেটাও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

এক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে-

খরচ

অবকাঠামো

স্পেকট্রাম লাইসেন্স

তবে প্রযুক্তি প্রতিদিন উন্নত হচ্ছে। যেমন স্টারলিঙ্ক (SpaceX) ইতোমধ্যেই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা বিশ্বব্যাপী চালু করেছে। ভবিষ্যতে হয়তো আইফোনও স্টারলিঙ্ক বা অন্য কোনো স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারবে।


সবশেষে বলা যায়-

আইফোন ১৪ ও ১৫ সিরিজ ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের সাম্প্রতিক ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি বড় সুখবর। ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিনামূল্যে স্যাটেলাইট-নির্ভর ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা পাওয়া মানে হলো-যেখানেই থাকুন না কেন, বিপদে পড়ে আপনি সাহায্য চাইতে পারবেন।

যদিও এরপর কী হবে তা অনিশ্চিত, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ভবিষ্যতের মোবাইল যোগাযোগে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিই বড় ভূমিকা রাখবে। আর অ্যাপল সেই ভবিষ্যৎ গড়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।